RSS Feed
  1. কেন ছাত্রছাত্রীরা পাশ করেনা ?? ছাত্রছাত্রীদের দোষ কি ?

    November 3, 2011 urmi rumi

    কেন ছাত্রছাত্রীরা পাশ করেনা ?? ছাত্রছাত্রীদের দোষ কি ?
    ( একটি ফান পোষ্ট )

    পরীক্ষায় ফেল করা কোনও মতেই ছাত্রছাত্রীদের দোষ নয় । কারন বছরে মাত্র ৩৬৫ টি দিন !!!!!!!!
    যেটা একজন ছাত্রছাত্রীর জন্যে একটি টিপিক্যাল একাডেমিক ইয়ার ।
    অথচ
    > > > >
    ১) ৫২ টি শুক্রবার । আপনি জানেন দিনটি ছুটির দিন …… বাকী রইলো ৩১৩ দিন ।
    :)
    ২) ৫২ টি শনিবার , এটিও ছুটির দিন তাইনা ? ছুটির দিন মানেই ছুটটটটঠি !!!!! রইলো ২৬১ দিন ।
    :D
    ৩) পবিত্র রোজার বন্ধ ৩০ দিন । হাতে রইলো ২৩১ দিন ।
    B-)
    ৪) হরতাল – ঘোরতাল ইত্যাদিতে গেল ২০ দিন । থাকলো ২১১ দিন ।
    ;)
    ৫) ঈদ – বিজয় দিবস – ভায়া দিবস ইত্যাদি মিলিয়ে সব সরকারী ছুটি অনুন্য ২২ দিন । ২১১ – ২২ = ১৮৯ দিন ।
    :P
    ৬ ) ৮ ঘন্টা দৈনিক ঘুম । ঘুম ছাড়া শরীর টেকেনা । ঘুম ঘুম চোখে পড়া হয়না । সে হিসাবে ১২২ দিন । থাকলো ১৮৯ – ১২২ = ৬৭ দিন ।
    /:)
    ৭) দিনে তিন বেলা খাবার খেতে খেতে গেল ২ ঘন্টা । তাতে খরচ হয়ে গেল ৩০ দিন । রইলো ৩৭ দিন ।
    :D
    ৮) অসুস্থ্য থাকার কারনে সিক লিভ কমপক্ষে ৩ দিন ধরা যায় । থাকলো ৩৪ দিন ।
    :((
    ৯) ছাত্রছাত্রীরাও তো সামাজিক জীব ? তাই আড্ডা দিতে দিনে ১ ঘন্টা হিসাবে ১৫ দিন । ৩৪ – ১৫ = ১৯ দিন ।
    :P
    ১০) সারা বছরে বিভিন্ন টার্মের ক্লাস পরীক্ষার জন্যে অনুন্য ব্যয় ১৫ দিন । ১৯ – ১৫ = ৪ দিন ।
    ;)
    ১১ ) সামাজিকতা রক্ষায় নিমন্ত্রন রাখতে বছরে ৩ দিন । রইলো ৪ – ৩ = ১ দিন ।
    :)
    ১২) বাকী দিনটি তো তার জন্মদিন ! এটা কি বাদ দেয়া যায় ? তাইনা ?

    হাতে কোনও দিন বাকী থাকেনা !!!!!!!
    B-)
    তাহলে ছাত্রছাত্রীরা পাশ করবে কি ভাবে


  2. পুরুষ নির্যাতনের বোবা কান্নার করুণ আর্তনাদ।পর্ব এক

    October 11, 2011 urmi rumi

    পুরুষ নির্যাতনের বোবা কান্নার করুণ আর্তনাদ নারীবাদী আন্দোলনের খাতার ভাঁজে চেপে রাখা ইতিহাস হয়েই থাকবে, কোন নাট্য নির্মাতার নাটকের দৃশ্য তো দুরে থাক বরং বিবেকবান সমাজের কাছে আকুতি মিনতির ধারে কাছে যাওয়ার পথও রুদ্ধ হয়ে গেছে, সে গন্তব্যের পথে পেয়ালার কাটা বিছিয়ে দিল কে, কি তার পরিচয় ? আইন, সমাজ, ধর্ম এখানে নীরব। কেউ স্ত্রীর কাছে কেউ সন্তানের কাছে জিম্মী। কেউ লোক লজ্জার খাঁচায় আবদ্ধ পাখী হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে, কিই বা করার আছে। মানবতা এখানে কাঠগড়ার সাক্ষী।

    চাকুরী কিংবা অবসর জীবনের সাথী আমার মানসিক প্রশান্তি,

    পরপারে ডাক পড়েছে ,এখনো আমার খেলার সাথী , কাসের বন্ধু ,এক টেবিলে বসে খাওয়া আমার ভাইবোন , অসহায় জীবনের সংগী সাথী , আমি জেগে ছিলাম না ঘুমিয়ে বাবার আগমনে একটি চকলেটের আশায় , বাবার ধমকে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছি মায়ের আচলে ,
    মা আমায় আচল দিয়ে লুকিয়ে রেখেছে , আজ তারা কোথায় ,
    আমি তাকিয়ে আছি তারা আসবে , কি যেন এক লাগামহীন পরিচিত শত্রু তাদের আসার পথে বাধা হয়ে আছে , আমার যাওয়ার পথে বিবেক তাড়িত কাটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,

    আমার মন এগোলেও পা এগোয় না।

    কি এমন ভুলে এমন হল যে, শেষ বেলায় খাটের সাথী হবে ওরা, আমি থাকব নীরব নিথর,
    যারা আমার জন্য ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদবে, আমি শুধু হাসব আর ভাববো যে অন্যায় আর অবিচার করেছি সে প্রশ্নের জবাব দিতে আসামী হয়ে হাতকড়া হাতে কাঠগড়ার দিকে যাচ্ছি অপরাধের শাস্তি পেতে, আমি কি পারব নিজেকে বাচাতে, রাক্ষুসীকে কাঠগড়ায় দাড় করাতে , শুনবে আমার কথা , পাব কি নিস্তার বরং প্রিয় সন্তান নামের ভয়ংকর অপরাধী রেখে এসেছি , তাদের অপরাধ আমায় খুছিয়ে খুছিয়ে মারবে অনন্তকাল, এ আমার পাওনা।

    ঐশর্য্য নামের লাগামহীন ঘোড়া, মুকুটহীন সম্রাট
    উত্তপ্ত বালুকায় আমার মায়ের করুন আর্তনাদ।
    পিতার কর্তব্য স্বরণে ছিলনা রুপান্তরে আবদার
    সন্তান প্রিয়, রুপসী স্ত্রী, আভিজাত্য অহংকার।
    দরিয়া, দরিয়া তোমার উত্তপ্ত বারি
    চেহারা, চেহারা তোমার কলংকিনী নারী।
    প্রভাত হবে শিশির ভেজা কুয়াশায় ঢাকা চাদর
    অনুতাপ, রাগ, পেছনে ফেলি বিরাগ বধুর আদর।
    অলস দিনের ভাই আমার, করুণ দিনের বোন
    তোর ছলনায় ভুলে গিয়েছিনু, মরন দিনে শোন।
    আজকে আমি ফিরে পেতে চাই , কিশোর দিনের খেলা
    কার কারনে পাই না খুঁজে হারিয়ে যাওয়া বেলা।

    সেই পরিবার বিমুখো স্বামী খেক রাক্ষুসী স্ত্রীর মানসিক নির্যাতনের রুপের ভয়াবহতা কোন বিখ্যাত শিল্পীর তুলি দিয়ে আঁকা সম্ভব নয় ,
    নয় ফুটিয়ে তোলা কোন স্থীর চিত্রে।
    হাজারো ঘটনার নীরব সাক্ষী আজ কলমের ফোটায় কি শেষ হবে??? তার পরও .. ..

    কনের পিতার কাছ থেকে কোন কিছু দাবি করা বা আদায় করা যৌতুকের পর্যায়ে পড়ে , পরিনতি সমাজ, ধর্ম,আইনে সঙ্গায়ন করা আছে কিন্তু বরের মাবাবা ভাই বোনকে বঞ্চিত করে মেয়ের হাসবেন্ড তথা জামাইর টাকা বসে বসে খাওয়া হয় তাকে কোন আইনের সঙ্গায় ফেলা হবে, সেটাকি যৌতুক না কৌতুক?

    বিবাহিত মেয়েরা বাবার বাড়ীতে কতটুকু সম্মানবোধ করেন এই প্রশ্ন এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার প্রথায় বিশ্বাসীদের ভাবিয়ে তুলেছে।

    মাবাবা মেয়ে বড় হলে চিন্তায় থাকেন কি ভাবে সুপাত্রস্থ করা যায় মেয়েকে।
    কিছু কিছু ব্যতীক্রম ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধুমধাম করে বিয়ে দেন , বিয়ের সময় বরের হাতে , বরের পিতা মাতার হাতে মেয়েকে তুলে দেন বরের বাড়ীর মেহমানদের সামনে।
    বড় আকুতি মিনতি করে চোঁখ মুছতে মুছতে বলেন বাবা তোমার হাতে তুলে দিলাম বা আপনাদের হাতে তুলে দিলাম মেয়ে আমার বড় আদুরে ছিল ওর ছোটখাট ভুল গুলো শুধরে দিবেন , বড় কোন ভুল করলে আমাদের জানাবেন।

    এর পর শুরু হয় মেয়েকে বুঝানোর পালা ( মা এ বাড়ী তোর আসল বাড়ী নয়, তোর স্বামীর বাড়ীই আসল বাড়ী, মেয়েদের একদিন শশুর বাড়ী যেতে হয়, অপরের বাড়ীকে নিজের করে নিতে হয় , একদিন বাপের বাড়ী ছেড়ে যেতে হয়) আরও কত কি..
    মেয়ে একটি ভিন্ন পরিবেশে স্বামীর বাড়ীতে অত্যন্ত সম্মানের সহিত কদিন কাটান , পরিবেশটা বুঝে নিতে, সকলকে আপন করে নিতে কিছু সময় অপো করতে হয়।
    এভাবেই চলছে আমাদের সমাজ জীবন।
    একান্নভুক্ত পরিবারে শশুর ,শাশুড়ী, ননদ, জাঁ ও অন্যান্যদের সাথে মিলেমিশে চলতে হয় টুকি টাকি দুএকটা ঘটনা যে না ঘটে তা আমি বলছি না।

    কিন্তু হাসবেন্ড যদি আয় রোজগারে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে থাকে বা প্রবাসে থাকে তখনই ঘটে সমস্যার সূত্রপাত।

    শুরু হয় উপল্য খোজার পালা, ছুতানাতায় ঝগড়াঝাটি , মাঝে মাঝে বাপের বাড়ী যাওয়া ।

    ইতোমধ্যেই বাপের বাড়ী এবং শশুর বাড়ীর মধ্যে একটা ব্যবধান তৈরীতে নানান উপাদান জমাট হয়ে যায়। দুপক্ষের রশি টানাটানিতে এক সময় মেয়ে বাপের বাড়ীর আস্কারা পেয়ে হাসবেন্ডকে দ্রুত যন্ত্রটির মাধ্যমে শশুর বাড়ীর কুৎসা রটিয়ে ধীরে ধীরে বিষিয়ে তোলে তার মন।

    আর এই ফাকে স্ত্রী নমস্য সাহেব ফিল্টার সিগারেটে ফু দিতে দিতে ভাবতে থাকে গেল গেল, সব গেল , স্ত্রী , পূত্র , অর্থ কড়ী সবই গেল ,স্ত্রী আমার অত্যাচারে সব হারাল । মাথায় দিল চক্কর এই ফাকে মা বাবা ভাই বোনের সাথে শুরু হল টক্কর , ইতোমধ্যে দ্রুত যন্ত্রের ব্যবহার এর মাত্রা বেড়ে গেল। এভাবেই বিষিয়ে তোলা হয় স্বামীর মন, তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করতে শুরু হয় নানা আয়োজন। এক সময় আলাদা থাকার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বৈধ অবৈধ যা যা দরকার সবই করা হয় । কখনো বাপের বাড়ী তারপর উভয় সংসারকে অংগুলী দেখিয়ে স্বামীর সব আশা আকাংখা ভুলন্ঠিত করে তাকে জিম্মী করা হয় কুতসা রটনার মাকড়সার জাল দিয়ে।

    আমাদের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত সমাজে কেমন জানি শকুনের কালো ছায়া পড়েছে , বিবাহিত মেয়েরা শশুরবাড়ীর বদলে বাপের বাড়ী থাকতেই বেশী স্বাছন্দ বোধ করছে।

    তাহলে বিয়ে দেয়ার দরকারটা কি, এত ধুমধাম বা এত আয়োজনই বা কেন?

    যে দিন তোমায় দেখতে এলাম প্রথম দেখা আমার
    রুপ তোমার তুচ্ছ ছিল, স্বভাব,বংশ, পরিবার।
    সম্ভ্র্রান্ত ঘরে জন্ম তোমার খ্যাতির নাহি শেষ
    ঘটক আমায় হাসির ছলে, দীঘল কালো কেশ।
    কেশের চেয়ে গুনের কদর , দু:খ ভরা হাসি
    বাসর ঘরে বলেছিলাম টানতে হবে রশি।
    কৃষক বাবার সন্তান আমি আশায় ভরা মুখ
    আমার মাঝে লুকিয়েছিল সংসার গাথার সুখ।
    কস্ট গাথা পরিবারে জন্ম আমার ধন্য
    প্রসংশা ছিল আমার বেলায় তুচ্ছ ছিল অন্য।
    গায়ের লোকে ইর্ষা করে, কস্ট হত বাবার
    এই ছেলেকে এত আদর, কি লাভ হবে তোমার।
    বলতো বাবা হিংসা নহে , ও যে আমার খনি
    অলস দিনে সাথী হবে , থাকবে চোঁখের মনি।
    সবার চোঁখকে ফাকি দিয়ে আমার সুখের টাকা
    সেই মা আমার মৃত্যুপথে সুটকেস আমার বাঁধা।
    সেই ভরসার আশায় থাকি মন ভোলানো কথা
    মন ভুলিয়ে ঘুরিয়ে দিলে করুন দিনের ব্যাথা।
    পরপারের খবর আসছে, বোঝা আমি সবার
    যাদের আমি ঠক দিয়েছি সংগী সাথী আমার।
    তোমরা আমায় তাড়িয়ে দিতে ব্যস্ত কেন এত
    চোঁখের পানি বোনের আঁচল ফোটা শত শত।
    আমার আশায় বুক ভরেছে , বঞ্চিত হল যারা
    বিদায় বেলায় শেষ ভরসা বঞ্চিত ঐ তারা।
    চলবে………………….


  3. মেয়েরা কেন চলে যায়?

    urmi rumi

    brake up

    গত নভেম্বরে মাহবুবা আখতার ভালবাসা: মেয়েরা কেমন চায় আর ছেলেরা যেমন হয় এই শিরোনামে কিছু কথা লিখেছিলেন, যা ব্যাপক হিট করেছিল। সরল গদ্যে বলা তাঁর কথাগুলোর সাথে আমি কম বেশী একমত।
    কিন্তু খুব কাছ থেকে দেখা ছেলে এবং মেয়ের মধ্যকার সম্পর্কের কিছু ঘটনা আমাকে এই লেখায় প্ররোচিত করেছে। একে কোন গবেষণা পত্রের কেস স্টাডি ভেবে ভুল না করাই শ্রেয়।

    এক
    জিসান সমাজ কল্যানে পড়তো। বাংলা সিনেমার নায়কের মত নয়, সত্যি সত্যিই জিসান ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার লাইনে ছিল শেষ পর্যন্ত সেকেন্ড হলেও। একসময় হলে আমার রুমমেট ছিল জিসান। ওরই ইয়ারমেট, ফোর্থ হওয়া ফারাহ ছিল ওর গার্লফ্রেন্ড। দুজনের সাথেই আমার বন্ধুত্ব। মগ বাজারে আমার পার্ট টাইম চাকুরী থেকে রোকেয়া হলের সামনে দিয়ে হলে ফেরার সময় চোখে পড়লে রিকশা থামিয়ে আমিও বসে পড়তাম ওদের সাথে। ওদের আনন্দময় খুনসুটি দেখে মাঝে মাঝে আমারও মনে হতো, এমন একটা মায়াবতী পাশে থাকলে খারাপ হতোনা।

    অনার্সের রেজাল্টের পর এমনিতেই জিসান একটু বিমর্ষ। কিছুদিন বিরতির পর হঠাৎ একদিন জিসানকে দেখে রবিন্দ্রনাথের সেই ওলাওঠা ব্যামোর কথা মনে হল। আমি পুরো আঁতকে উঠলাম, একি দশা হয়েছে জিসানের? বললোনা কিছুই। জিসানের রুমমেট রাজুকে ধরলাম, ব্যাপারটা কি?

    জানলাম, ফারাহ বিয়ে করে ফেলেছে এক ডাক্তারকে। আমাদের সমাজে মেয়েদের নিরাপত্তাবোধের যে অভাব, তাতে এরকম হতেই পারে, কিন্তু আমি অবাক হয়েছি আরেকটি তথ্যে, বিয়ের আগে নাকি ফারাহ বানী দিয়ে গেছে- জিসানের যা একদিন হবে, তাতো আমি এখনই পাচ্ছি…. আমার সাথে ফারাহ’র আর যোগাযোগ হয়নি, আমি তার কাছ থেকে শুনতে পারিনি, সে সত্যিই এই কথা বলে গেছে কিনা, তবু চলে গেছে এটাই সত্যি।

    কিছুদিন আগে জিসানের সাথে দেখা, সেই চুপ চাপ মেধাবী ভাল ছেলে জিসান বিরতিহীন কথা বলছে মোবাইল ফোনে। ও প্রতিজ্ঞা করেছে এক এক করে একশ মেয়ের মনে কষ্ট দেবে।

    দুই
    আলমের সাথে নিপুর সম্পর্কের প্রথম দিকে আলম কিছু ঘুমের বড়ি নিয়ে একদিন মুকুলের রুমে এসেছিল। নিপু ওকে রিফ্যুজ করেছে, ও নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছেনা। মুকুল ওকে টোয়েন্টি ফোর আওয়ারের ফ্রি কন্সালটেন্সী দিয়ে দিয়ে ফিরিয়ে আনে। পরে আলমের সাথে নিপুর সম্পর্কটা হয়েছিল। এবং সেটা এমনই যে, আমাদের বন্ধুদের কোন প্রোগ্রামেই ওরা থাকতোনা, ওদের নিজস্ব সময় নষ্ট হবে বলে।

    আলমের পারিবারিক যে অবস্থান, তাতে প্রেম করে বিয়ে পর্যন্ত পৌঁছুনোর চিন্তা করাটা একধরণের ভ্রান্তি বিলাস। তবুও কমিটমেন্ট আর ইচ্ছাশক্তির বলে আলম সেসব জয় করেছিল। আলম এগিয়ে যাচ্ছিল নিশ্চিত লক্ষ্যে। ২৬ তম বিসিএস-এ প্রথমবারেই আলম ভাইভা দিয়ে এসেছিল আমাদের মধ্যে সবার আগে।

    মাস্টার্স পরিক্ষা যেদিন শেষ হল, তার পরদিন রাত দুটোর দিকে আলম আবার ঘুমের ওষুধ নিয়ে মুকুলের রুমে হাজির, চোখ লাল।
    নিপু আজ সন্ধ্যায় পটুয়াখালী চলে যাবার আগে বলে গেছে, সে আর আলমের সাথে যোগাযোগ রাখতে চায়না।

    তিন
    জারিফ আর মুনা ল’য়ে পড়তো। ইন্টারে পড়াবস্থায়ই জারিফ তার জেলায় ছাত্রলীগের সেক্রেটারী ছিল, জনকণ্ঠ এবং আরো দুটো পত্রিকার জেলা সংবাদদাতা ছিল। সেই জারিফ ফার্স্ট ইয়ারেই মুনাকে দেখে এমন গাড্ডার মধ্যে পড়লো, কোথায় গেল জারিফের সাংবাদিকতা আর কোথায় গেল সেই সংগ্রামী জারিফ!

    আমাদের সময়ে, মানে ৯৮ থেকে ২০০৪ এ অনার্স দেওয়া পর্যন্ত মৈত্রী হল এলাকায় জারিফ মুনার প্রেম কিংবদন্তীর পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।
    জারিফের দৈন্দন্দিন রুটিন ছিল, সকালে হল থেকে বেরিয়ে মৈত্রী হল থেকে মুনাকে নিয়ে এনেক্স বিল্ডিংএ ক্লাশে যাওয়া, তারপর ক্লাশ থেকে বের হয়ে টিএসসিতে দুপুরের খাবার খাওয়া এবং বিকেলে মৈত্রী হলের সামনে চলে যাওয়া, সবশেষে দশটায় হলগেট বন্ধ হলে মুনার দেওয়া টিফিন বক্স হাতে হলে ফিরে আসা। এই সময়কালে ওদের একাকী কেউ দেখেছে কিনা বল মুশকিল।

    অনার্সের পরপরই জারিফ একা হয়ে গেল। আগে মুনা থাকায় জারিফ কোনদিন অন্য কোন বন্ধুর প্রয়োজন মনে করেনি বা অন্যরাও বন্ধুত্ব করতে আগ্রহী হয়নি। পুরো হলে আমার সাথেই জারিফের যা যোগাযোগ, আমার চার রুম পরেই থাকতো ও।
    কোন এক অদ্ভুত কারনে জারিফ আমাকে পছন্দ করতো। মুনা যেদিন স্পেশাল কোন মেনু দিত, জারিফ আমাকে ডেকে নিয়ে খাওয়াতো, আমাকে বলতো ওদের নিজেদের কথাগুলো। সেই সুত্রে জারিফ যখন একা হয়ে গেল, তার সময়গুলো আমার রুমেই ব্যয় হতে লাগলো বেশী। আমি জানলাম, এক তরুণ শিক্ষকের সাথে মুনা ইউকে চলে গেছে।…..

    তারপব জারিফ জীবন সংগ্রামে নেমে গেছে, এবং সফল হয়েছে। জারিফ এখন এইচ এস বি সির বড় কর্মকর্তা। গতকাল ওর অফিসের পাশ দিয়ে একটা কাজে যাওয়ার সময় ঢু মারলাম। সেই আরিফ আর নেই। প্রেমিক জারিফ শরীর থেকে ছাত্রত্বর গন্ধ ঝেড়ে ফেলে পুরোপুরি পেশাদার। বিয়ে করে সুখে আছে, প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর, গাড়ি কিনবে শিঘ্রই, ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছে। আমাকে বলে, বিয়ে করে ফেল…. ধুর মিয়া…. সব ঠিক হয়ে যাবে……
    আমি বললাম, জারিফ মুনার কথা মনে পড়ে…………..?

    এক নিমিষেই জারিফের মুখের হাসি নিভে গেল।

    আর ভাল্লাগছেনা, লিখলে শুধু বাড়তেই থাকবে তালিকা, শেষ হবেনা। আমি যেটা বলতে চেয়েছিলাম, আমার এই বন্ধুদের মধ্যে কি ভবিষ্যৎ ছিলনা কোন? সবাই তো এখন ভালো ক্যারিয়ার নিয়েই আছে, তাহলে মেয়েগুলো কেন এভাবে কষ্ট দিয়ে ভেঙ্ েচুরে দেয় ছেলেদেরকে?

    নোটসঃ
    সংগত কারনেই নামগুলো বদলে দেয়া, তবে সব ঘটনাই সত্যি।


  4. গল্পঃ প্রতিশোধ (কঠিনভাবে ১৮+)

    October 10, 2011 urmi rumi

    ক’দিন আগে অর্নীর ইয়াহু ম্যাসেঞ্জার-এ একটা এড রিকোয়েস্ট এসেছে। জীবনে এরকম আজব নিক অর্নী আর দেখেনি। নিকটি ছিল-“ডেইমন নেক্রোপলিস”। এড রিকোয়েস্টটা পাওয়ার পর থেকেই অর্নীর কেন যেন প্রচন্ড কৌতুহল কাজ করছিল নিকটার প্রতি। “ডেইমন নেক্রোপলিস” শব্দটির অর্থ উদঘাটনের জন্য গুগলেও বেশ কয়েকবার সার্চ দিয়েছিল। কিন্তু কোনো লাভ হয় নি। রিকোয়েস্টটা একসেপ্ট করবে কি করবেনা এই নিয়ে মারাত্নক দ্বিধার মধ্যে পড়ে গিযেছিল অর্নী। ফেসবুকে প্রতিদিন তার কাছে প্রায় শ’খানেক এড রিকোয়েস্ট আসে অপরিচিত আইডি থেকে। কোন কিছু চিন্তা না করেই সাথে সাথে ইগ্নোর করে দেয় সেগুলো। আর সেলফোনে যে কত শত আননন নম্বর থেকে ফোন আসে তার তো কোনো ইয়ত্তাই নেই! ভুলেও কলগুলো রিসিভ করার কথা মাথায় আনে না অর্নী। সেদিন যে তার কি হয়েছিল, কিছুই বুঝতে পারছিলো না। নিজের সাথে অনেকটা যুদ্ধ করেই শেষমেষ “ডেইমন নেক্রোপলিস”-কে এড করে ফেলেছিল।

    এড করার পর ৫-৬ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে অথচ এখন পর্যন্ত “নেক্রোপলিস”-কে অনলাইনে দেখতে পায়নি অর্নী। “নেক্রোপলিস”-এর উপর মারাত্নক মেজাজ খারাপ হচ্ছিল তার। মনে মনে ঠিক করল এখনই ডিলিট মারবে তাকে। অর্নী যখন ডিলিট বাটনে ক্লিক করতে যাচ্ছিল ঠিক সেই মুহুর্তেই “নেক্রোপলিস” অনলাইন হল…

    –“হে অর্নী কি খবর? কেমন আছো?”
    –“আজব তো! আপনি আমাকে তুমি করে কেন বলছেন? কে আপনি? আমার আইডি কোথায় পাইছেন?”
    –“এই তো শুরু হয়ে গেল মেয়েদের অতি কমন ডায়লগ…”
    –“দেখেন, আপনি কিন্তু কথা ঘোরানোর চেষ্টা করবেন না! যা যা জিজ্ঞেস করছি ঠিকঠাক মত বলেন নাহলে এখনই ডিলিট মারলাম…”
    –“তোমার আইডি কোথায় পাইছি এটা আপাতত বলা যাবেনা। আর আমাকে কথায় কথায় ডিলিটের ভয় দেখাবানা, বুঝছ?”
    –“আপনি তো দেখি একটা আস্ত বেয়াদব! চোরের মার বড় গলা-এই প্রবাদটা আপনার বেলায় ১০০ ভাগ প্রযোজ্য।”
    –“হাহাহাহাহা।”
    –“আরে…হাসছেন কেন? আর আপনার নিকটা এরকম উদ্ভট কেন? এর অর্থ কি?”
    –“এটা একটা গথিক নিক। আমি মেটাল গানের চরম ভক্ত। তাই নিকটাও একটু মেটালিক”
    –“ও তাই? আচ্ছা, মেটাল গানের মধ্যে কুকুরের মত “ঘেউ ঘেউ” আওয়াজ ছাড়া আর কি আছে বলতে পারবেন?”
    –“যারা প্যানপ্যানানি ক্লাসিক মিউজিক শুনে অভাস্ত তাদেরকে মেটাল গানের মর্ম বোঝানো যাবে না।”
    –“আপনি কিভাবে বুঝলেন…আমি ক্লাসিক মিউজিক শুনে অভ্যস্ত?”
    –“এখানে বোঝাবোঝির কি আছে? মেয়েরা ক্লাসিক পছন্দ করবে এটাই তো স্বাভাবিক!”

    সেদিন “নেক্রোপলিস”-এর সাথে দীর্ঘ সময় কথা হয়েছিল অর্নীর। “নেক্রোপলিস”-এর আসল নাম রিগ্যান। একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যলয়ে পড়াশোনা করছে সে। পাশাপাশি একটি আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড দলের সাথেও জড়িত আছে। রিগ্যানের ড্যাম স্মার্ট এটিটিউড বেশ ভালো ভাবেই মুগ্ধ করেছে অর্নীকে। অর্নী আর রিগ্যানের মধ্যে অল্প কদিনেই বেশ ভালো একটা ফ্রেন্ডশিপ গড়ে উঠল। তো একদিন হঠাত করেই রিগ্যান অর্নীকে প্রস্তাব দিল দেখা করার জন্য। অর্নীও অমত করেনি। যথারীতি দেখা হল দু’জনের। রিগ্যানের ড্যাম স্মার্ট আউটলুক দেখে অর্নী তো পুরোপুরি ইম্প্রেসড। আর রিগ্যানও মুগ্ধ অর্নীর স্নিগ্ধ সৌন্দর্য দেখে। সেদিন অনেক কথা হল দু’জনের মধ্যে। ওরা ঘনঘন দেখা করতে লাগল সেদিনের পর থেকে। একটা সময় ওদের প্রেমও হল। অর্নী সপ্নেও কোনোদিন ভাবেনি এত শীঘ্রই প্রেমে জড়িয়ে পড়বে। প্রেমের ব্যাপারে ও সবসময়ই কিছুটা রক্ষনশীল ছিল। কিন্তু রিগ্যানের ব্যাপারটাই যেন আলাদা। অদ্ভুত এক আকর্ষন ক্ষমতা আছে রিগ্যানের যা একদম পাগল করে ফেলেছিল অর্নীকে।

    রিগ্যান একদিন ওর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর সাথে অর্নীকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য সেই বন্ধুর বাসায় নিয়ে এল। অর্নীও সরল মনে চলে এসেছে রিগ্যানের কথায়। কিন্তু এসেই অবাক হল সেই বন্ধুর ফ্ল্যাট তালামারা দেখে…
    –“ব্যাপার কি? বাসা তো তালামারা! তুমি তোমার ফ্র্যান্ডকে ফোন করে কনফার্ম করনি যে আমরা আসছি?”
    –“চিন্তার কিছু নেই। আমার কাছে চাবি আছে। ও একটু পরেই চলে আসবে। ক্লাসে আছে এখন”।
    –“ইন্টারেস্টিং তো!” তোমার বন্ধুর ফ্ল্যাটের চাবি তোমার কাছে?”
    –“ওর পুরো ফ্যামিলি ইউএসএ-তে থাকে। এখানে ও একা। আর এটাকে আমার সেকেন্ড হোম বলতে পারো। যখন খুশী হুটহাট চলে আসি। ও আমাকে ডুপ্লিকেট চাবি বানিয়ে দিয়েছে”।
    –“হুম বেশ জিগড়ি দোস্তি তোমাদের মধ্যে বোঝা যাচ্ছে”।

    বাসার ভেতরে ঢোকার পর অর্নী তো পুরোই অবাক। বিশাল বিশাল এক একটা রুম। বেশ পরিপাটি করে সাজানো সবকিছু। দেয়ালে সুন্দর সুন্দর পেইন্টিং। কোনো ব্যাচেলরের বাসা যে এত সুন্দর সাজানো গোছানো হতে পারে অর্নীর ধারনাই ছিল না।
    –“তোমার বন্ধু বেশ গোছানো মানুষ, তাই না?”
    –“তুমি আসবে বলে হয়ত আজকে একটু বেশী করেই গুছিয়েছে।”
    –“কি বললা তুমি?”
    –“আরে একটু জোক্স করলাম। তুমি এভাবে তাকিও না প্লিজ…আমার কিন্তু ভয় লাগছে”।

    রিগ্যানের কথা শুনে হেসে ফেলল অর্নী।

    –“কি খাবা জান? আমি কিন্তু বেশ ভালো কফি বানাতে পারি। একটু বসো কফি বানিয়ে আনছি।”
    –“আমার কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না। তুমি প্লিজ আমার পাশে একটু বসো সোনা”।

    রিগ্যান অর্নীর চোখে চোখ রাখল। ওর কপালের রেশমী চুলগুলোতে আলতো করে হাত বোলাতে লাগল। অর্নীর সারা শরীর যেন কাঁপছে। চোখ বুজে ফেলল সে। রিগ্যান অর্নীকে জাপটে ধরে চুমু খেতে লাগল। চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিতে লাগল অর্নীর সারা দেহ। রিগ্যানের কাছে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পন করে দিল অর্নী।

    রিগ্যানকে জড়িয়ে ধরে কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছিল অর্নী তা বলতে পারবেনা। প্রচন্ড হাসাহাসির শব্দ শুনে হঠাত ঘুম ভেঙ্গে গেল ওর। বোধ হয় রিগ্যানের ফ্রেন্ড চলে এসেছে। নিজেকে একটু গুছিয়ে ড্রয়িংরুমের দিকে এগিয়ে গেল অর্নী…

    –“ভালো আছো অর্নী? আমাকে চিন্তে পেরেছো”?

    সাম্যকে দেখে হতবাক হয়ে গেল অর্নী। কলেজ লাইফে অর্নীর লাইফটা হেল করে ফেলেছিল এই সাম্য। অর্নীর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য এমন কোনো কাজ নেই যে সাম্য করতে বাকি রেখেছে। অর্নী কখনোই সাম্যকে পাত্তা দিত না। সাম্যের প্রতি অর্নীর ক্রমাগত অবজ্ঞা পাগল করে তুলেছিল সাম্যকে। কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে বিশ্রি ভাবে একদিন গালাগালি করেছিল অর্নীকে। অর্নীর ক্লোজ কিছু ছেলে বন্ধু সেদিন বেদম প্রহার করেছিল সাম্যকে। এর পর থেকে সাম্য অবশ্য প্রকাশ্যে কখনো অর্নীকে বিরক্ত করেনি। তবে মাঝে মাঝে ফোন করে অর্নীকে বলত, “এই অপমানের প্রতিশোধ একদিন আমি নিয়েই ছাড়ব”। মূলত সাম্যের কারনেই আননন নম্বর থেকে কোন কল এলে অর্নী রিসিভ করত না।

    –“তুমি তো ধরা খেয়ে গেলে অর্নী”।
    –“কি বলতে চাও তুমি?”

    সাম্য হো হো করে হাসতে লাগল। সাম্য-এর সাথে রিগ্যানও হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে।

    –“রিগ্যান তোমাকে কখনো ভালোবাসেনি। ও তোমার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করেছে মাত্র। পুরো ব্যাপারটাই আমার প্ল্যান ছিল। আমি জানতাম রিগ্যানই আমার কাজটা করতে পারবে। হি ইজ এ প্রফেশনাল লেডিকিলার ইউ নো। তোমার আর রিগ্যানের সেক্সের মোমেন্টটা গোপনে ভিডিও বন্দী করা হয়েছে। এই ভিডিও আমি এখন ইন্টারনেটে ছেড়ে দিব। তোমাকে আমি মডেল প্রভার চেয়েও বেশী জনপ্রিয় করে তুলব কথা দিলাম।”–কথাগুলো বলে হো হো করে হাসতে লাগল সাম্য।

    –“আমাকে তুমি এত বড় শাস্তি দিও না সাম্য। আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ। এই ভিডিও প্রকাশিত হলে আমার আত্নহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবেনা”।–কথাগুলো বলে কাঁদতে কাঁদতে সাম্যের পা জড়িয়ে ধরল অর্নী।

    –“ঠিক আছে যাও, এক শর্তে তোমার ভিডিও আমি ছাড়ব না। শর্তটা হল আমি যখনই তোমার দেহ ভোগ করতে চাইব, সাথে সাথে তোমার রাজী হয়ে যেতে হবে। কি রাজী আছো? রাজী হওয়া ছাড়া তোমার আর তো কোনো উপায়ও নেই সোনা।”–কথাগুলো বলে হাসতে হাসতে অর্নীকে ভোগ করার জন্য এগিয়ে গেল সাম্য।


  5. ডাবল প্রেমের মাশুল সোনিয়াকে জীবন দিয়ে দিতে হলো-মেয়েরা সাবধান(২১+ পোস্ট),বেশী বুঝারা দূরে থাকুন

    urmi rumi

    সামাজিক মূল্যবোধ দেশে নেই বললেই চলে। তা না হলে কি কেউ একসাথে একাধিক প্রেম করতে যায়?? এবার একসাথে ডাবল প্রেম মানে দুইজনের সাথে একসাথে প্রেম করতে গিয়ে জীবন দিয়ে তাঁর প্রাশচিত্ত করতে হলো বরিশাল মমতাজ মজিদুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী সোনিয়াকে। একই সময়ে দুজনের সাথে প্রেম করার কথা প্রকাশ হয়ে গেলে দুজন প্রেমিক যুক্তি করে ধর্ষণ করার প্লান করে।ধর্ষণের পর দুই প্রেমিক [বরিশালের বাজার রোডের হক মিষ্টান্ন ভান্ডারের কর্মচারী বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ভুতেরদিয়া গ্রামের হোসেন আলী হাওলাদারের ছেলে রাশেদ হাওলাদার (২২) ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরকলমি গ্রামের মৃত রত্তন চৌকিদারের ছেলে শাহিন ওরফে হারুন (২৫)] মিলে প্রেমিকাকে গলা টিপে হত্যা করে।

    শাহীন জানান, তারা সবাই নগরীর ৬নং ওয়ার্ড আলীর গলি এলাকার বাসিন্দা। সোনিয়া একই সঙ্গে তার (শাহিন) ও রাশেদের সঙ্গে প্রেম করতো। পরে তা ফাঁস হয়ে যায়। বুধবার রাত সোয়া ৮টায় তিনি সোনিয়াকে মোবাইল ফোনে ডাকে। তার ডাকে সারা দিয়ে সোনিয়া ঘর থেকে বের হয়। এসময় তিনি সোনিয়াকে নিজ বাসায় নিয়ে যান। এর কিছু সময় পরে সেখানে উপস্থিত হন রাশেদ।

    রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশেদ প্রথমে সোনিয়াকে ধর্ষণ করে। এর পর ধর্ষণ করে শাহিন। এ ঘটনায় সোনিয়া তাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা করার হুমকি দেয়। এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে রাশেদ সোনিয়াকে বিছানায় ফেলে দিয়ে তার গলা টিপে ধরে। আর শাহিন মুখে বালিশ চেপে ধরে সোনিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
    আজ অভিযুক্ত দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    দেশটা যে কোন দিকে যাচ্ছে তা আল্লাহ ভালো জানে।এক জন নিয়ে শান্তি হয় না, দুজন লাগে। আর এমন পাপের কাজের প্রাশচিত্ত করতে হলো সোনিয়াকে প্রাণ দিয়ে। ঢাকা শহরের মেয়েরা তো আজকাল মালটি রিলেশান এর দিকে ঝুকে পড়ছে। আজ একজনের সাথে বাইকে, কাল আরেকজনের সাথে গাড়িতে বাহু বন্দি হওয়া। পরশু ফেসবুকে নতুন মক্কেলের আমদানি। অনেক মেয়ের মাঝে আছে ছেলেদের ঘুরানোর মতলব। কারো আছে ছেলেদের পকেট কাটার মতলব।কেউ বা নিছক ফান করার জন্য জড়িয়ে যাচ্ছে একাধিক সম্পর্কে। অনেক মেয়ে এটাকে ছেলে খেলা ভেবে বা টাইম পাস করার মাধ্যম ভাবে। কিন্তু এর মাঝেও যে খুব খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে তা ভাবে এমন মেয়ে আছে কয়জন??সোনিয়ার কাছ থেকে শিখুন। এ থেকে শিক্ষা নেন।
    আর ছেলেরা?? ওরাও যে খুব সাধু তা কিন্তু নয়। ওরা এলাকায় প্রেম করে একজনের সাথে আর ঢাকাতে কয়েকজনের সাথে।আমার এক বন্ধু এ আই ইউ বি তে পরে। এরই মধ্যে ভার্সিটির ২ জন আর ওর এলাকা রংপুরে একজন মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। হয়তো ও এদের কাউকেই বিয়ে করবে না ,আর ওই মেয়ে গুলো ও বসে থাকবে না। ওরা আমার আপনার ঘরেই বউ হয়ে আসবে। আমাদের প্রতারিত করে যাবে সারাজীবন। হয়তো সেই মেয়েটিও মনে মনে অনেক কষ্ট পাবে কিন্তু সমাজের ভয়ে, সংসার ভাঙ্গার ভয়ে সত্য চেপে যাবে সারাজীবন। সবচেয়ে অবাক লাগে এখনকার ছেলে মেয়েরা বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক করাটাকে এক ধরনের স্মার্টনেস মনে করে। অনেক মেয়ে বিশ্বাস করে বা আবেগের অতিসাহ্যে নিজেকে বিলিন করে দেয় তাঁর কাঙ্ক্ষিত পুরুষের মাঝে। ভাবে না এর ফলাফল কি হতে পারে। কিন্তু এটাই কি জীবন??

    কেউ কেউ বেশী বুঝা পাবলিক আছে যাদের ডায়ালগ হল,লাইফটা ইনজয় কর মামা।পৃথিবীতে বল বাঁচবি কদিন?? সময়টা যে বড় অল্প। এইসব পোলাপাইনের বাইক চেঞ্জ আর গার্ল ফ্রেন্ড চেঞ্জ করা যেন নেশা। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো বন্ধু মহলে এসে গর্বের সাথে বলে, “আজ অমুক কে খেয়ে ছাইড়া দিছি মামা। নতুন একটা ধরলাম। দোয়া করিস।“ আজীব এই বাজে কাজে দোয়া ছাইতে লজ্জা লাগে না?? আপুদের বলবো এইসব ছেলেদের থেকে দূরে থাকুন। বিয়ের পর জামাইয়ের সাথে অনেক মজা করতে পারবেন। এখন এগুলো ছাড়েন। নিজে শুদ্ধ থাকেন, সমাজকে শুদ্ধ রাখেন। পরিবারকে লজ্জা দিবেন না প্লিজ।
    আর ভাইয়ারা-পরকালের একটু ভয় করেন। একজন ছেলের জীবনে কয়টা মেয়ে লাগে?? ফেসবুকে মেয়ে দেখলেই শুধু রিকোয়েস্ট পাঠান। সামনে মেয়ে দেখলে শিষ দিয়ে বা বাজে কথা বলে আকর্ষণ নেবার চেষ্টা করেন।চেষ্টা থাকে কিভাবে মেয়েটার সেল ফোন নাম্বারটা নেওয়া যায়। এভাবে আর কতদিন?? নিজেকে বদলান। নিজের রুচিবোধ বদলান। অনেক ভালো থাকবেন

    বিদ্রঃ এখানে ছেলে ও মেয়ে বলতে কিছু মানসিক বিকারগ্রস্ত মেয়ের কথা বলা হয়জায়।এই লেখার বিষয় বস্তু বেশীর ভাগ টিন এজারদের নিয়ে।হয়তো মানুষ বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেক চেঞ্জ হয়। এখনো দেশে অনেক ভালো ভালো ছেলে আছে যাদের কারণে এখনো মা বোনেরা বাহিরে বের হতে পারে। অনেক ভালো মেয়ে আছে যারা ইসলামিক বিধি বিধান মেনে চলে। তাদেরকে উদ্দেশ্য করে আমার এই লেখা না। এই লেখা তাদের জন্য যারা এই লেখা পড়ার পর পিত্তি জলে যাবে। কথায় আছে না-মাটিতে বাড়ি দিলে অপরাধী চেইতা উঠে। হয়তো তারা আমার চোদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে ছাড়ছে।হয়তো সামনে পেলে ডাকাত সাজিয়ে গন ধোলাই ও দিয়ে দিবে। :) :) :D :D

    double love


  6. ভিকারুননিসা স্কুলের ছাত্রীক যৌন নির্যাতন ও আলোচিত সেই চিঠি

    urmi rumi

    ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখার শিক্ষক পরিমল জয়ধর কর্তৃক দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি নিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন চলছে। ওই ছাত্রী প্রথমে ২৮শে জুন কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করে। তাতে পরিমলের শাস্তি দাবি করা হলেও যৌন হয়রানির বিষয়ে কিছু বলা ছিল না। পরে ৪ঠা জুলাই অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগে তার ওপর যৌন হয়রানির বিস্তারিত বর্ণনা দেয় সে। তা সংবাদপত্রে প্রকাশের পরই ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। আন্দোলনে নামে তারা। আন্দোলনে যোগ দেন অভিভাবকরাও। ৪ঠা জুলাই লিখিত চিঠির পরই আন্দোলন জোরদার হয়। সেই চিঠিটি হুবহু এ রকম-

    ‘সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি (নাম) জন্ম ১৮/১১/১৯৯৬। আমি ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা দিবা শাখার একজন নিয়মিত ছাত্রী। আমি ছাত্রী হিসেবে ভাল ফলাফলের জন্য প্রতি বিষয়েই স্কুলের শিক্ষকদের কাছে কোচিং করি। যেমন লুৎফর রহমান স্যারের কাছে গণিত, মাহবুবুল হক স্যারের কাছে ইংরেজি, জাহাঙ্গীর আলম স্যারের কাছে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন, জিনাতুন্নেছা আপার কাছে জীববিজ্ঞান এবং পরিমল জয়ধর স্যারের কাছে বাংলা। অত্র স্কুলে আমি চতুর্থ শ্রেণী থেকেই পড়ে আসছি। পরিমল জয়ধর স্যার স্কুলে বাংলা বিষয় পড়ান বলে আমি তার কোচিংয়ে গত মে ২০১১ থেকে ১০ জনের ব্যাচে পড়া শুরু করি। আনুমানিক ২০-২৫ দিন পরে কোচিং ক্লাসে পড়তে যাওয়ায় আমার একটু বিলম্ব হয়। দেরিতে যাওয়ায় যেটুকু পড়ায় আমি অনুপস্থিত ছিলাম সেটুকু পড়া স্যার আমাকে বুঝিয়ে দেবেন বলে দেরি করতে বলেন। সবাই চলে যায়; কিন্তু আমি রয়ে যাই। সবাই চলে গেলে আমি আগের পড়াটুকু পড়তে থাকি। স্যার মূল গেট বন্ধ করে রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দেন এবং আমি কিছু বোঝার আগেই আমার মুখ বেঁধে ফেলেন। মুখ বাঁধা থাকায় আমি কিছু বলতে পারিনি। হাত ছোড়াছড়ি করতে যাওয়ায় তিনি আমার ওড়না দিয়ে আমার হাত পেছনে বেঁধে ফেলেন। হাত বেঁধে আমাকে ভীষণ মারধর করেন। মারধর করে আমাকে উলঙ্গ করে ফেলেন এবং আমার ছবি তোলেন। ছবি তোলার পর আমাকে শারীরিক নির্যাতন করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতভম্ব হয়ে যাই এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। এরপর আমার বাঁধন খুলে দেন এবং সাবধান করে দেন যে ঘটনা কাউকে বললে, নিয়মিত তার ক্লাস না করলে, আমার ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবেন এবং আমাকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেন। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি এবং দিশেহারা হয়ে যাই। এরপর জুন ১৭ তারিখ লুৎফর স্যারের ব্যাচ থেকে পড়ে আমি পরিমল স্যারের ব্যাচে পড়তে যাই। তখন অন্য ব্যাচ পড়ছিল। স্যার আমাকে পাশের রুমে বসতে বলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাচ ছুটি দিয়ে সদর দরজা বন্ধ করতে যান। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে তাকে দরজা বন্ধ করতে বারণ করি। তখন সে আমাকে ধাক্কা দেন এবং মাথা দেয়ালে লাগায় আমি মাথায় ব্যথা পাই। তখন আমাকে ধমক দেন যে, ‘তোকে বলেছি আমার ইচ্ছার বাইরে যাবি তো তোকে জানে মেরে ফেলবো’। এরপর আমাকে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন করেন। জুন ১৮ তারিখ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ১৯ জুন তারিখে ঘটনাটি আমার সহপাঠীদের অবহিত করি। তারা আমাকে ঘটনাটি শাখা প্রধানকে জানাতে বলে। তারা আমাকে পরামর্শ দেয় যে, শাখা প্রধান এ বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার করতে পারবেন। সেদিন আমি আমাদের শাখা প্রধান লুৎফর রহমান স্যারকে ব্যাপারটি বলতে যাই। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত বা স্কুলের কাজে স্কুলে ছিলেন না বিধায় তাকে ওইদিন ঘটনাটি জানাতে পারিনি। জুন ২০ তারিখ স্যার স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন। জুন ২১ তারিখে তিনি স্কুলে আসেন এবং আমি তাকে সুযোগ বুঝে ব্যাপারটি জানাই। তিনি আমাকে বললেন যে, তিনি ঘটনাটি দেখবেন। লুৎফর রহমান স্যারকে ঘটনা জানানোর পরও ২২ তারিখে পরিমল স্যার স্কুলে এলে আমি লুৎফুর স্যারকে পুনরায় ব্যাপারটি বলি। তিনি আমাকে ব্যাপারটি ভেবে দেখছেন বলে আশ্বস্ত করেন। জুন ২৩ তারিখে স্কুলে অভিভাবক মিটিং ছিল যেখানে আমাদের স্কুলের অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন। সেদিন পরিমল স্যারকে আমরা স্কুলে দেখিনি। এরপর ২৬ ও ২৭ তারিখ অসুস্থতার কারণে আমি স্কুলে উপস্থিত হতে পারিনি। জুন ২৮ তারিখে স্কুলে গেলে আমাদের দশম শ্রেণীর সব ছাত্রী পরিমল স্যারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আমরা আলোচনায় বসি। আলোচনায় তার সম্পর্কে আরও কিছু কুরুচিপূর্ণ কথা উঠে আসে। তখন আমরা সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেই যে, আমরা অধ্যক্ষকে এ ব্যাপারে অবহিত করবো। তাই আমরা পরিমল স্যারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে আবেদনপত্র তৈরি করি।’ আবেদনপত্রটি ক্লাসে পড়ে শোনালে স্বেচ্ছায় সবাই এতে নিজ নিজ নাম স্বাক্ষর করে। এরপর আবেদনপত্রটি শাখা প্রধান জনাব লুৎফর রহমান স্যারের মাধ্যমে অধ্যক্ষ বরাবর পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ জানাই। উল্লেখ্য যে, আমি স্কুলে অনুপস্থিত থাকাকালীন ২৭ তারিখে ঘটনাটি স্কুলে জানাজানি হয়ে যায়। অতএব, এ ব্যাপারটি আপনার সুবিবেচনায় এনে আমার ওপর পরিমল স্যার যে বর্বোরচিত, অমানবিক, অনৈতিক, ঘৃণিত ও পাশবিক আচরণ করেছেন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।


  7. লিভ টুগেদার : মেয়েরা কেন সহ্য করতে পারে না?

    urmi rumi

    live together

    চার বছর আগের কথা বলছি। যে ফ্লাটে থাকতাম, তার পাশে একটি পাচ কক্ষের তিন শেড ঘর। শুনলাম, ওখানে দু জন রাজমিস্ত্রী আর দু জন গার্মেন্টস মেয়ে কর্মী বসবাস করে। স্বামী-স্ত্রীর মত করেই। কিন্তু তারা স্বামী-স্ত্রী নয়। তাদের মধ্যে চুক্তি হল, মেয়ে দুটো ঘর ভাড়া বহন করবে এবং রান্না-বান্না করবে। আর পুরুষ দুটো খাবার খরচ বহন করবে আর বাজার-সদায় করবে। এতে করে মেয়ে দুটোর খাবার খরচ সেভ হবে, বাজার করার ঝামেলা কমবে। আর পুরুষ দুটোর থাকার ব্যবস্থা হবে বিনা পয়সায়, আর রান্না-বান্নার চিন্তা করতে হবে না। বাকী অন্য সব ভোগ-উপভোগ বোনাস। যতক্ষণ না কোন দুর্ঘটনা হানা দেয়।
    ভাড়াটিয়াদের একজন বাড়ীওয়ালাকে বলল, ওরা অন্যায়ভাবে বসবাস করছে। বাড়ীর মালিক হিসাবে আপনার কিছু করার আছে। বাড়ীর মালিক বলল, আমার ওখানে নাক-গলানোর কী দরকার? তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে ঠিকঠাক মত ঘর ভাড়া নিয়েছে। আর মাস শেষে ভাড়া দিচ্ছে। আমার সমস্যা কী? আমি কি ওদের কাবিন-নামা চেক করতে যাবো? আপনাকে যখন ঘর ভাড়া দিয়েছি তখন কি আপনাদের নিকাহ-নামা আমি চেক করেছি?

    আমি জানি না, ওরা জানত কি না ওদের এ ধরনের বসবাস করার নামটা কি? শিক্ষিত মানুষেরা এটাকে নাম দেবেন লিভটুগেদার। বাংলায় এর একক প্রতিশব্দ আমার জানা নেই। কেহ জানলে আমাকে আমাকে বলে দেবেন।
    এ ধরনের কত লিভটুগেদার যে আমাদের ভোগবাদী নগর সভ্যতার বিভিন্ন অলি-গলি, মহাসড়কে পাওয়া যাবে তার সঠিক পরিসংখ্যান বা আনুমানিক পরিসংখ্যানও আমাদের জানা নেই। খবরে যে সব ঘটনা প্রকাশ পায় এর চেয়ে যা প্রকাশ পায় না তার সংখ্যা অনেক বেশী।
    গরীবদের খবর আমরা রাখি কজনে। বড় লোকেরা যখন এ কাজ করে বিপদে পড়ে তখন আমরা কিছুটা জানতে পারি মিডিয়ার বরকতে।
    এ রকম একটি ঘটনা হল রাজধানীর উত্তরায় কনিকার আত্নহত্যা

    আরেকটি ঘটনা হল, জাবির ছাত্রী রুহির আত্নহত্যা

    লিভটুগেদার সমাজ ও রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে কতটা অন্যায় তা আমি পরিমাপ করতে পারবো না। ভারতের সুপ্র্রিমকোর্ট তো হিন্দু ধর্মের রেফারেন্সে ফতোয়া দিয়ে বলেছে, এটা বিলকুল জায়েয।

    আশা করা যায় আমাদের কোর্টও কোন এক সময় লিভটুগেদার-কে কল্যাণকর বলে ঘোষণা দেবে।
    লিভটুগেদার সম্পর্কে কোন ধর্মে কি বিধান আছে আমার জানা নেই। তবে ইসলাম যা বলেছে তা স্পষ্ট। আল কুরআনে একাধিক স্থানে বলা হয়েছে, . . .ব্যভিচারিনী বা গোপন যৌনসঙ্গীনি হিসাবে নয়। (৪:২৫)
    ইসলাম এ সম্পর্কে কি বলে তা আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। প্রতিটি মুসলিম জানে যে, বিষয়টি বৈধ নয়। এমনকি যে সকল মুসলিম ইসলামের ঘরে জন্ম নিয়ে নিজেদেরকে হতভাগা মনে করে বা ইসলামের নাম শুনলে বিব্র্রতবোধ করে তারাও জানে, ইসলাম এ সম্পর্কে কি বলে। ইসলামের একটি বড় সফলতা এখানে যে, সে তার অনুসারীদের জানাতে পেরেছে তার দৃষ্টিতে কোনটি ভাল ও কোনটি খারাপ। লিভটুগেদার ইসলামের দৃষ্টিতে এতটা মন্দ যে, যদি একজন নারী ও একজন পুরুষ এ নিয়্যতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, কয়েক বছর পর প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে আমরা পরস্পরে আলাদা হয়ে যাবো, তাহলে এ বিবাহটিও বৈধ হবে না।

    অনেকে বলতে পারেন, লিভটুগেদার মানুষের প্রয়োজনের জন্য। এখানে ইসলামের হস্তক্ষেপ করাটা ঠিক হয়নি।
    তাদের বলা যায়, ইসলাম তার অনুসারীদের-কে সকল মন্দ ও নোংড়ামী থেকে সেভ করার চেষ্টা করবেই। এ ক্ষেত্রে সে কোন নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করে না। কোন জাহেলের জাহেলিয়্যাতের দাম দেয় না।
    আমরা যখন একটি ছোট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করি তখন তার সদস্যদের সেভ করার জন্য কিছু বিধি-নিষেধ প্রনয়ণ করি। যা অন্য প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায় না। ইসলাম নামক একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান তার অনুসারীদের রক্ষার জন্য কেন এ রকম করবে না?
    যদি কোন কিছুতে মানুষের উপকার থাকে সেটা ইসলাম নিষিদ্ধ করবে না, এ ধারনা ঠিক নয়। এখানে ইসলামের নীতি হল, কোন একটি বিষয়ে মানুষের উপকার আছে আবার আছে তাতে ক্ষতিও। আর ক্ষতির পরিমাণটা বেশী। তাহলে ইসলাম ক্ষতির দিকটি বিবেচনা করতে বলে। মদ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে এ নীতির কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে। (২:২১৯)

    আলোচ্য ঘটনা দুটোতে আমরা দুটি মুল্যবান প্রাণকে আত্নাহুতি দিতে দেখলাম। এ দুটো ক্ষতি হাজার হাজার লিভ টুগেদারের উপকারভোগীদের উপকারের তুলনায় কত মারাত্নক! জীবন বাচানোর জন্য লিভটুগেদার জরুরী নয়। কিন্তু জীবন বাচানোর জন্য লিভটুগেদার থেকে দুরে থাকা কতখানি জরুরী?
    এখানে যে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই তা হল, লিভটুগেদারের মেয়ে যাত্রীটি কেন বার বার আত্নহত্যা করে? পুরুষ যাত্রীটি একবারও কেন আত্নহত্যা করে না?
    অনেকে বলবেন, মেয়েটি কোন একটি দুর্ঘটনার আভাস পেয়েছিল। এতে করে নিজ মান সম্মানের প্রশ্ন জড়িত ছিল। তাই সে আত্নহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
    তাদের এ কথা আমি মেনে নিতে পারছি না। কারণ, মেয়ে দুটো এমন পরিবারের নয়, যেখানে এ ধরনের ঘটনাকে খুব খারাপ চোখে দেখা হয়। তা ছাড়া সেই দুর্ঘটনা তাদের জীবনকে তেমন সমস্যায় ফেলে দিত বলে ধারনা করা যায় না।
    আমি মনে করি, মেয়েদের মধ্যে নৈতিকতাবোধ পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশী। যত দিন যায়, অপরাধ বোধ তাদের তত নাড়া দেয়। ফলে তারা এ অপরাধ থেকে মুক্তির জন্য এ পথ বেছে নেয়। বাস্তবতায় প্রমাণ, মেয়েরা পুরুষদের তুলনায় অনেক কম দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে থাকে।
    আপনাদের কাছে হয়ত এ প্রশ্নের আরো ভাল কোন উত্তর আছে।


  8. মেয়েরা কেন সেক্স করে? (কিঞ্চিত ১৮+)

    urmi rumi

    মেয়েরা কেন সেক্স করে ?

    প্রশ্নটা শুনে প্রশ্নকর্তার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক। যৌনক্রিয়ার যে কারণগুলো স্বাভাবিক বলে পরিগণিত হয় সেগুলো হচ্ছে ভালবাসা/রোমান্সের প্রভাবে আবেগতাড়িত হয়ে, আনন্দলাভের উদ্দেশ্যে, সন্তানলাভের আশায় ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো ছাড়াও আরো অনেক বিচিত্র্য উদ্দেশ্যে মানুষ যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হয়। লক্ষ্যণীয়ভাবে, নারীদের যৌনক্রিয়ার কারণগুলো পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়।

    ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সিন্ডি মেস্টন এবং ইভোল্যুশনারি সাইকোলজিস্ট ডেভিড বাস পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ১০০৬ জন নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তাদের যৌন প্রেষণার বিষয়ে। আর মাত্র ১০০৬ জন নারীর কাছ থেকেই বেরিয়ে এসেছে যৌনতার ২৩৭ টি আলাদা আলাদা কারণ। যদিও অনেকগুলো কারণের ব্যাপারে প্রায় সবাই একমত, আবার অনেকগুলো কারণ কয়েকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তো দেখা যাক, কারণ গুলো কী কী? মেস্টন ও বাস নারীদের যৌন-প্রেষণাগুলোকে স্বাভাবিকভাবেই তিন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করেছেন: শারিরীক, আবেগীয় এবং বস্তুবাদী কারণ। প্রেষণার মধ্যে যেমন রয়েছে, নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, সেল্ফ এস্টিম বৃদ্ধি করা, প্রেমিককে ধরে রাখা, তেমনি রয়েছে জোর-জবরদস্তির শিকার হওয়া পর্যন্ত।

    বাস এবং মেস্টনকে প্রেষণার বিচিত্রতা অবাক করেছে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে সম্পূর্ণ পরোপকারী উদ্দেশ্য, তেমনি সম্পূর্ণ বদ মতলব। যেমন, কাউকে এস. টি. ডি তে আক্রান্ত করা।

    কথা না বাড়িয়ে দেখে নেয়া যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন এবং ফ্রিকোয়েন্ট কারণগুলো কী কী (মেটসন ও বাসের গবেষণা অনুসারে):

    ১. আনন্দলাভের জন্য: অবভিয়াস! কিন্তু গবেষণার ফলাফল “মেয়েদের যৌনতা ভালবাসা তাড়িত, আর ছেলেদের যৌনতা ইন্দ্রিয়সুখ তাড়িত”, পশ্চিমা সমাজে প্রচলিত এই মিথকে উড়িয়ে দেয়। অর্ধেকেরও বেশি সংখ্যক নারীর কোন ধরণের রোমান্টিক রিলেশনশিপ না থাকা অবস্থায় শুধু ইন্দ্রিয় সুখের জন্য সেক্স করতে আপত্তি নেই, বরং আগ্রহী। তবে কারো সাথে রোমান্টিক রিলেশন থাকা অবস্থায় ইন্দ্রিয় সুখের জন্য অন্য কারো সাথে সেক্স করার ব্যাপারে প্রায় ৮০ শতাংস নারীর ঘোরতর আপত্তি রয়েছে। অর্থাৎ সিঙ্গেল অবস্থায় রোমান্স বিহীন সেক্সে অনেকেই আগ্রহী হলেও পার্টনারের সাথে চিটিং কে তারা সমর্থন করেন না।

    ২. রোমান্স: এটাও অবভিয়াস। প্রেমে পড়লে আবেগতাড়িত হয়ে প্রেমলীলায় মত্ত হয়নি এরকম জুটি খুঁজে পাওয়া দুস্কর।

    ৩. পার্টনারকে ধরে রাখার জন্য: অনেক সময়ই নিজের আবেগের চেয়ে বড় হয়ে দাড়ায় পার্টনারকে ধরে রাখার প্রচেষ্টা। পার্টনারের আবেদনে সাড়া না দিলে সে ছেড়ে চলে যেতে পারে, এই ধারণা থেকে অনেক সময়ই অনিচ্ছা সত্ত্বেও সাড়া দেয় (আমরা পুরুষেরাও কি তা করি না?)

    ৪. অন্যের প্রেমিককে ছিনিয়ে আনার জন্য: অনেকে অন্য নারীর সাথে প্রকাশ্য রোমান্টিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও পুরুষদের আবেদনে সাড়া দেয় এই উদ্দেশ্যে যে পুরুষটি তার ‘পারফরমেন্সে সন্তুষ্ট হয়ে’ বা অন্য কোন কারণে তার রোমান্টিক পার্টনারকে ত্যাগ করে নতুন নারীকে স্বীকৃতি দিবে।

    ৫. দায়িত্ববোধ হতে: অনেক নারীই তাদের সঙ্গীদের সকল ধরণের যৌন চাহিদা মেটানো দায়িত্ব বলে মনে করে। সেক্ষেত্রে আবেগতাড়িত না হয়েও বা পার্টনার চলে যাওয়ার সম্ভাবণা না থাকা সত্ত্বেও সে দায়িত্ববোধ থেকে সাড়া দেয়। (ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এইটা ছেলেরাও করে থাকে)

    ৬. গৃহস্থলি কাজের বিনিময়ে ( :) :) হাসতেই আছি, হাসতেই আছি ): অনেক বদ টাইপের পুরুষরা নাকি সেক্স না করলে বাজার করুম না, ঘর রং করুম না, গৃহস্থালী আবর্জনা ফেলুম না এইসব বলে পার্টনারদের ব্লাকমেইল করে।

    ৭. করুণা করে: মানসিকভাবে ভেঙে পড়া কোন পরিচিতজনকে সান্তনা দেয়ার জন্যও নাকি মহীয়সীরা সেক্স করে থাকে।

    ৮. বদ মতলবে: পদোন্নতির জন্য, টাকার জন্য, উপহার পাওয়ার লোভে, পার্টনারের ওপর কোন কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে গোপন প্রতিশোধ হিসেবে, কোন শত্রুতার কারণে এস. টি. ডি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে।

    ৯. ব্রেক-আপের জন্য: অনেকে পার্টনারের ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও জোড়-জবরদস্তি করে সেক্স করার জন্য, যেন পার্টনার বিরক্ত হয়ে ব্রেক-আপ করে

    ১০. মেডিক্যাল সেক্স: মাথা ব্যাথা সহ আরো অনেক শারিরীক সমস্যার চিকিৎসা হিসেবেও নাকি অনেকে সেক্স করে থাকে।

    [পি. এস: গবেষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ মিস করেছেন। সেটা হলো-বিশ্বশান্তির জন্য ইরাক যুদ্ধের কিছুদিন আগে এক সুন্দরী (নাকি বান্দরী চেহারা মনে পড়ছেনা :P ) বলেছিলেন বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সাদ্দামের সাথে বিছানায় যেতে প্রস্তুত। ;)


  9. প্রেম – কত প্রকার ও কি কি – সবিস্তারে বর্ননা (১৮+ পোস্ট) ♥♂♀

    September 16, 2011 urmi rumi

    ১. প্রথম প্রেম: জীবনের প্রথম প্রেম সবার কাছেই স্মরনীয় হয়ে থাকে। প্রথম প্রেমের কোন নির্দিষ্ট বয়স নেই তবে অনেকের ক্ষেত্রেই খুব কম বয়সে প্রথম প্রেম এসে থাকে। প্রথম প্রেম বেশিরভাগ সময়ই আদতে প্রেম হয়না, সেটা হয়ে থাকে Infatuation। প্রথম প্রেম হতে পারে কোন বাল্য বন্ধু, হতে পারে গৃহশিক্ষক বা স্কুলের শিক্ষক বা শিক্ষিকা, হতে পারে বয়সে বড় কোন আপু, হতে পারে কোন ফিল্মের নায়ক বা নায়িকা, হতে পারে পাড়ার কোন হ্যান্ডসাম তরুনী বা বড়ভাই। কারো কারো ক্ষেত্রে আবার জীবনের প্রথম প্রেমই একমাত্র প্রেম।

    ২. প্রথম দেখায় প্রেম/Love at First Site: প্রথম দেখাতেই এই ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। এ ধরনের প্রেম অনেক ক্ষেত্রেই একতরফা হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়। প্রথম দেখাটা হতে পারে কোন বিবাহ অনুষ্ঠানে, শপিং মল, কলেজ, ভার্সিটি, কোচিং সেন্টারে, স্যারের বাসায়, বন্ধু আড্ডায়। এমনকি বন্ধুর মোবাইলে ছবি দেখেও এ ধরনের প্রেমের শুরু হতে পারে। এ ধরনের প্রেমে প্রায় অবধারিতভাবেই তৃতীয় পক্ষের (বন্ধুকূল বা বড়ভাই) সাহায্যের দরকার পড়ে। এ ধরনের প্রেমের সূত্রপাতে রূপ সৌন্দর্য্য ও দৈহিক সৌন্দর্য্যের ভুমিকাই বেশি।

    ৩. বন্ধুত্ব থেকে প্রেম: এই ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে প্রেমিক ও প্রেমিকা দু’জনেই প্রথমে বন্ধু থাকে। আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব কালের বিবর্তনে প্রেমে রূপ নিতে থাকে, অনেক সময়ই দু’জনেরই অজান্তে। তবে আশেপাশের মানুষ (বিশেষত বন্ধুকূল) কিন্তু ঠিকই খেয়াল করে। দুঃখজনকভাবে এধরনের প্রেম অনেক সময়ই অকালে ঝরে যায় কোন একতরফা সিদ্ধান্ত বা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে। অনেকে বন্ধুত্বের এই রূপান্তর মেনে নিতে পারেনা বলে অনুশোচনায় ভোগে – বিশেষত মেয়েরা।

    ৪. একরাতের প্রেম/One Night Stand: এগুলোকে প্রেম বললে পাপ হবে। ৯০% ক্ষেত্রেই ছেলেরাই এ ধরনের প্রেমের আয়োজক। দৈহিক বাসনাকে পূর্ণতা প্রদান করাই এই প্রেমের প্রধান উদ্দেশ্য। উদ্দেশ্য পূরণের পূর্বে কিছু নাম মাত্র ডেটিং হতে পারে। উদ্দেশ্য পূরণের জনপ্রিয় স্থান: কোন হোটেল, খালি ফ্ল্যাট, সমুদ্রতীরবর্তী কোন শহর।
    এই ধরনের প্রেমের মূলমন্ত্র হলো:
    “আজকে না হয় ভালোবাসো, আর কোনোদিন নয়……..”

    ৫. বিবাহোত্তর প্রেম: এই প্রেম শুধুমাত্র স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দেখা যায়। বিয়ের ঠিক পর পর প্রথম কয়েক মাস এই প্রেম প্রবল থাকে। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পূর্বপরিচিত নয় এমন দু’জনের মধ্যে এ্যারেন্ঞ্জ বিয়ে হলে এই ধরনের প্রেম প্রবল রূপে পরিলক্ষিত হয়। প্রেম করে বিয়ে হলে সেক্ষেত্রে বিবাহোত্তর প্রেমে ভাঁটা পড়ে বলে একটি মতবাদ প্রচলিত আছে, কবে এর সত্যতা পরীক্ষিত নয়। বিবাহোত্তর প্রেম ফলাতে হানিমুনের জুড়ি নেই।

    ৬. পরকীয়া প্রেম: বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন পুরুষ বা মহিলার সাথে প্রেমকেই পরকীয়া প্রেম বলে। পরকীয়া প্রেমের মূল কারনগুলো হলো:

    ক. সময়ের সাথে সংসার জীবনের প্রতি অনাগ্রহ বা তিক্ততা চলে আসা।
    খ. শারীরিক চাহিদা পূরণে স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি একঘেঁয়েমি চলে আসা।
    গ. শারীরিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর অক্ষমতা বা অপূর্ণতা।
    ঘ. নিতান্তই এ্যাডভেঞ্চার-প্রিয়তা, লুকিয়ে প্রেম করার স্বাদ অনুভব করা।

    মহিলাদের মধ্যে পরকীয়া এদেশে এখনো ততোটা জনপ্রিয় নয় যতোটা পুরষদের মধ্যে। পুরুষদের পরকীয়া প্রেমের ক্ষেত্রে তৃতীয় ব্যাক্তিটি কম বয়সী কোন অল্প বয়সী মহিলা এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে যুবতীও হয়ে থাকেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে তৃতীয় ব্যাক্তিটি সাধারণত কোন মধ্যবয়সী পুরুষ হয়ে থাকেন। ৩০-৪৮ বছর বয়সীদের মধ্যে পরকীয়া প্রেম বহুলভাবে পরিলক্ষিত হয়।

    ৭. অপরিণত প্রেম/কম বয়সে প্রেম/না বুঝেই প্রেম: এ ধরনের প্রেম সাধারণত স্কুলে পড়ুয়া অবস্থায় হয়ে থাকে। মেয়েরাই এ ধরনের প্রেমে বেশি পড়ে। তবে ছেলেরাও পড়ে। প্রেমিক প্রেমিকাদের দু’জনই সমবয়সী হতে পারে। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রেমিক তার চেয়ে বয়সে বড়ও হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রেমের সাফল্যের হার কম – অর্থাৎ এ ধরনের প্রেম বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় খুব কম ক্ষেত্রেই।

    ৮. কর্মক্ষেত্রে প্রেম: কর্মসূত্রে দু’জন মানুষের পরিচয়ের মাধ্যমে এ ধরনের প্রেম গড়ে ওঠে। উক্ত দু’জন হতে পারেন কোন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর দু’জন কর্মকর্তা অথবা কোন প্রজেক্টে পরস্পরের পার্টনার। অফিসে নতুন জয়েন করেছেন এমন কোন মেয়ের সাথে এরূপ প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অফিসের পুরুষ কর্মকর্তাদের মাঝে তাগিদ দেখা যায়। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়।

    ৯. মোবাইল প্রেম: বন্ধুর কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে বা ফোনবুক থেকে চুরি করে, পাড়ার ফ্লেক্সির দোকান থেকে সংগ্রহ করে, অন্য কোন সুত্র থেকে নাস্বার পেয়ে বা নিতান্তই মনের মাধুরী মিশিয়ে কোন নাম্বার বানিয়ে তাতে ফোন করে কোন মেয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। অনেক সময় মোবাইলে এভাবে কথা বলে ছেলে মেয়ে পরস্পরের সাথে সামনাসামনি দেখা করে। এ ধরনের প্রেমের সফলতার হার খুবই কম। আসলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলতা এ ধরনের প্রেমের মূল উদ্দেশ্য নয়।

    ১০. ইন্টারনেটে প্রেম: ইন্টারনেটে চ্যাটিংয়ে বা সোসিয়্যাল মিডিয়া সাইটে (যেমন – ফেইসবুক, মাইস্পেস) দু’জনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে এ ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। অনেক ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ের একজন বিদেশে অবস্থান করে। এভাবে পরিচয়ের পর ছেলে মেয়ে পরস্পরের সাথে সামনাসামনি দেখা করে। এ ধরনের প্রেমে উভয়পক্ষেরই ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকে অনেক। অনেক সময়ই কোন ছেলে মেয়ে সেজে অন্য কোন ছেলের সাথে এমন সম্পর্ক চালিয়ে যায়। আর তাই অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের সম্পর্ক প্রতারণায় পরিণত হয়। পূর্বে এ ধরনের প্রেমের সাফল্যের হার বেশি থাকলেও বর্তমান সময়ে এসে সাফল্যের হার কম।

    ১১. ত্রিভূজ প্রেম: এ ধরনের প্রেমকে বলা যেতে পারে একজন মেয়েকে নিয়ে দু’জন ছেলের টাগ-অফ-ওয়ার বা দড়ি টানাটানি। একই মেয়ের প্রতি দু’জন ছেলের ভালোবাসা এই প্রেমের মূলকথা। উক্ত মেয়েকে পেতে দু’জন ছেলেই মরিয়া থাকে। ত্রিভূজ প্রেমের ক্ষেত্রে প্রায়শঃই মেয়েরা মানসিক দ্বন্দে ভোগে – কাকে পছন্দ করবে এই নিয়ে। অনেক সময়ই ছেলে দু’জনের মধ্যে প্রতিযোগিতা রূপ নেয় মারামরিতে। দু’জন মেয়ে আর একজন ছেলের মধ্যেও ত্রিভূজ প্রেম লক্ষিত হয়। তবে সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা মারামারিতে নয় বরং রূপ নেয় চুলোচুলিতে।

    ১২. বহুভূজ প্রেম/Multi প্রেম: একই মেয়ে বা ছেলের প্রতি ২ এর অধিক ব্যাক্তির অনুরাগই মূলতঃ বহুভূজ প্রেম। এক্ষেত্রে উক্ত মেয়ে বা ছেলেটি স্বভাবতই দৃষ্টিকাড়া সৌন্দর্য্যের অধিকারী হয়ে থাকেন। সবাই তার সাথে প্রেম করতে চায় এই বিষয়টি তাকে ব্যাপক আনন্দ দেয়।

    ১৩. অসমবয়সী প্রেম: এ ধরনের প্রেমের বৈশিষ্ট্য প্রেমিক ও প্রেমিকার মধ্যে বয়সের উল্লেখযোগ্য ব্যবধান। যদিও মেয়ের চাইতে ছেলে কয়েক বছর বড় হলেও তা স্বাভাবিক প্রেম হিসেবে ধরা হয়, তথাপি, যদি পার্থক্য খুব বেশি হয় – যেমন ১২ বছর তবে তা অসমবয়সী প্রেম হিসেবে ধরা হয়। মজার ব্যাপার হলো ছেলের চাইতে মেয়ে এক বছরের বড় হলেও তা অসমবয়সী প্রেম হয়ে হিসেবে ধরা হয়। অসমবয়সী প্রেমকে এ সমাজে বাঁকা চোখে দেখা হয়, বিশেষত যদি মেয়ে ছেলের চাইতে বয়সে বড় হয়। অসমবয়সী প্রেম বিয়েতে রূপ নিলে দাম্পত্য জীবন শান্তিপূর্ণ হয় না বলে একটি মতবাদ এদেষে প্রচলিত আছে, কিন্তু এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

    ১৪. শারীরিক প্রেম/শরীর সর্বস্ব প্রেম: প্রেমিক ও প্রেমিকার মধ্যে শরীরি আকর্ষণই এই প্রেমের মূল উপাদান। আবেগ ততোটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

    ১৫. দুধের মাছি প্রেম/অর্থসর্বস্ব প্রেম: “যতোদিন টাকা আছে, ততোদিন সম্পর্ক” – অনেকটা এই নীতির বলে এই ধরনের প্রেম গড়ে ওঠে। অবশ্যই ছেলেরাই টাকা ব্যয় করে থাকে এসব ক্ষেত্রে। ধনীর ঘরের ছেলেদের পক্ষে এই ধরনের সম্পর্ক বেশিদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়। তবে মোটামুটি আয়ের ছেলেরা খরচের ঠেলায় অল্পদিনেই হাঁপিয়ে ওঠে, সম্পর্কও আর বেশিদিন থাকেনা। তখন ঐসব মেয়েরা অন্য ছেলের খোঁজে বেরোয়।

    ১৬. ঈর্ষাণ্বিত প্রেম: “অমুক ছেলে প্রেম করে, আমাকেও করতে হবে” বা “অমুকের বয়ফ্রেন্ড আছে,আমারো চাই” – অনেকটা এমনতর মানসিকতা থেকে এসব প্রেমের সূত্রপাত। এ ধরনের প্রেমগুলো অনেক সময়ই সাময়িক হয়ে থাকে। অধিকাংশ সময়ই বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড মনের মতো না হলেও প্রয়োজনের তাগিদে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া হয়।

    ১৭. জেদের বশে প্রেম: পূর্ববর্তী বা বর্তমান বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডকে অনেকটা দেখিয়ে দেয়ার (“তুমি ছাড়াও আমার প্রেম করার লোকের অভাব নেই…….”) উদ্দেশ্যে যাকে সামনে পাওয়া যাবে ধরে তার সাথে প্রেম করাই এ ধরনের প্রেমের মূল লক্ষ্য। মনের মতো লোক পাওয়ার বিষয়টি এখানে নগণ্য।

    ১৮. চড়িয়ে খাওয়া প্রেম/গাধাখাটুনি প্রেম/ঘানি টানা প্রেম: প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছ থেকে কোন বিশেষ সুবিধা লাভই এ ধরনের প্রেমের উদ্দেশ্য। ক্লাসের ভালো রেজাল্ট করা মেধাবী ছাত্রটি এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় শিকার হিসেবে পরিগণিত হয়। মেয়েদের মধ্যে এ ধরনের প্রেমের প্রচলণ বেশি দেখা গেলেও ছেলেদেরকেও মাঝে মাঝে করতে দেখা যায়।

    ১৯. অব্যক্ত প্রেম/না বলা প্রেম: নীরবে এক অপরকে ভালোবেসে গেলেও পরিস্থিতি, সময় বা মনোবলের অভাবে প্রেমিক বা প্রেমিকার মধ্যে কেউই একে অপরকে কোনোদিন বলেনি। অব্যক্ত প্রেম হারানোর বেদনা খুব কষ্টদায়ক, জীবনের অন্যতম বড় ভুল হিসেবে মনে থাকে।

    ২০. সুপ্ত প্রেম: একে অপরকে ভালোবাসে কিন্তু কেউই কাউকে বলছে না, পুরো ব্যাপারটাই লুকিয়ে যাচ্ছে এমন প্রেমই সুপ্ত প্রেম। সুপ্ত প্রেম আজীবন সুপ্ত থেকে গেলে তা পরিণত হয় অব্যক্ত প্রেমে।

    ২১. চুক্তিবদ্ধ প্রেম: এ ধরনের প্রেম হয় পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে। সাধারণ অর্থে প্রেম বলতে যা বোঝায় তা এই ধরনের প্রেমে অনুপস্থিত থাকে। কোন ভবিষ্যৎ থাকেনা এসব সম্পর্কের। মূল উদ্দেশ্য হলো কোন বিশেষ গোষ্ঠীকে নিজেদের মধ্যে প্রেম দেখিয়ে কোন বিশেষ স্বার্থ চরিতার্থকরণ। শোবিজ ও মিডিয়ার তারকাদের মধ্যে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়।

    ২২. মিথ্যে প্রেম/অভিনয় প্রেম: এ ধরনের প্রেমে প্রেমিক বা প্রেমিকার দু’জনের যেকোন একজন প্রেমের অভিনয় করে যায়। যখন প্রেমিক বা প্রেমিকার কেউ একজন ভবিষ্যতের কথা ভাবতে আরম্ভ করে তখন এই প্রেমের সমাপ্তি ঘটে। এ ধরনের প্রেমের পরিণতিও যেকোন একজনের জন্য খুবই কষ্টদায়ক।

    ২৩. ২য় ইনিংস প্রেম/Old is Gold প্রেম/Revived প্রেম: পূর্ববর্তী বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের সাথে পুনরায় জুড়ে গিয়ে এই প্রেম করা হয়।

    ২৪. ব্ল্যাকমেইল প্রেম/অনিচ্ছাপূর্বক প্রেম/জোড় খাটানো প্রেম: এটাকেও প্রেম বললে পাপ হবে। জোড়পূর্বক এসব প্রেম করা হয়ে থাকে। এর শিকার হয়ে থাকে মেয়েরাই। পাড়ার বখাটে ছেলে বা বড় ভাই, কলেজের বখাটে ছাত্র, কর্মক্ষেত্রে উপরস্থ কর্মকর্তা বা বস প্রধানত এরাই এ ধরনের সম্পর্ক স্থাপন করতে আগ্রহী হন।

    ২৫. গায়ে পড়ে প্রেম/নাছোড়বান্দা প্রেম: মেয়ে কোন সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী নয় তবুও ছেলে জোড় চেষ্টা চালিয়ে যায় এমন প্রেমে। অনেক সময়ই এমন পরিস্থিতিতে মেয়েরা সরাসরি না বলতে পারে না যার মাশুল তাদেরকে পরে দিতে হয়।

    ২৬. বিদেশী প্রেম/পরবাসী প্রেম: এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ের মধ্যে অন্ততঃ একজন বিদেশী হয়।

    ২৭. অসাম্প্রদায়িক প্রেম: এ ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে দু’জনে দুই ধর্ম বা সম্প্রদায়ের অনুসারী হয়ে থাকে। সমাজ এ ধরনের সম্পর্ককে সমর্থন করেনা। বিশেষতঃ হিন্দু-মুসলমান ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রেম বেশি বিতর্কের সৃষ্টি করে।

    ২৮. চাঞ্চল্যকর প্রেম/আলোচিত প্রেম: এ ধরনের প্রেমে প্রেমিক ও প্রেমিকা যাই করেন না কন তা মিডিয়ায় চাঞ্চল্যকর তথ্য হিসেবে প্রচার করা হয়। সাধারণত শো-বিজ আর মিডিয়ার তারকা ও সেলিব্রেটিরা এ ধরনের প্রেম করে থাকেন।

    ২৯. ঐতিহাসিক প্রেম: এইসব প্রেমের কাহিনীর অবসান ঘটেছে অনেক আগেই কিন্তু আজো রয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়। এখনো এসব প্রেমকে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়।

    ৩০. ভাড়াটে প্রেম/ভ্রাম্যমাণ প্রেম/Roaming প্রেম: এ ধরনের প্রেমের প্রেমিক বা প্রেমিকারা বলতে গেলে ভাড়া খাটে। তারা সকালে একজনের গার্লফ্রেন্ড তো বিকেলে আরেকজনের। কোন নির্দিষ্ট ঠিক ঠিকানা নেই। ব্যাপারটা অনেকটা মাসে মাসে মোবাইল হ্যান্ডসেট চেন্ঞ্জ করার মতো।

    ৩১. প্রেমময় প্রেম: এই প্রেমে প্রেমিক আর প্রেমিকা দু’জনেই একজন আরেকজনের দিকে প্রেমময় ভঙ্গিতে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থাকেন, হাত ধরে বসে থাকেন কোন রেস্টুরেন্টের অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশে, সারাক্ষণ I Love You বলে আর শুনেও ক্লান্তি আসে না তাদের। সারাদিন প্রেমের পর মোবাইলে ১২টার পরও কম জান না তারা।

    ৩২. ঝগড়াটে প্রেম: সারাক্ষণ দু’জনের মধ্যে খিটির-পিটির লেগে থাকাটা এই প্রেমের বৈশিষ্ট্য। কিছুক্ষণ হয়তো দু’জনে শান্ত থাকে, তারপর আবার কিছু না কিছু একটা নিয়ে একজন শুরু হয়ে যায়। এ ধরনের প্রেমে ঝগড়াগুলো ক্ষণস্থায়ী হয়, কিন্তু খুব ঘনঘন হয়। ঝগড়াগুলো অধিকাংশই হয় ফোনে। বন্ধুকূল সর্বদা দু’জনের ঝগড়া মিটাতে ব্যস্ত থাকে। মেয়ে তার সখীদের কাছে এই ঘনঘন ঝগড়ার কথা বলে বেড়ায়।

    ৩৩. সমলিঙ্গীয় প্রেম: আমাদের দেশে এখনো খুব একটা প্রচলিত না হলেও বাইরের অনেক দেশেই এই ধরনের প্রেমের প্রচলণ আছে। দু’জন ছেলের মধ্যে হলে তাদেরকে Gay বলে আর দু’জন মেয়ের মধ্যে হলে Lesbian।

    ৩৪. অমিল প্রেম/দুনিয়াছাড়া প্রেম: এই প্রেমে প্রেমিক ও প্রেমিকার মধ্যে কথাবার্তা, মত, পছন্দ, অপছন্দ কোন দিক দিয়েই কোন মিল থাকেনা, তারপরও কিভাবে যেন সম্পর্ক টিকে থাকে।

    ৩৫. ‘আজো তোমায় ভালোবাসি’ প্রেম: এই প্রেমে প্রেমিক-প্রেমিকার বিচ্ছেদ ঘটেছে আগেই। তবুও আজো তারা একে অপরকে ভালোবাসেন। নীরবে চেয়ে যান সেই মানুষটির সঙ্গ যার সাথে একসঙ্গে জীবন কাটাতে পরিস্থিতিই ছিলো একমাত্র ও সবচেয়ে বড় বাধা।

    ৩৬. ব্যর্থ প্রেম: এবং সবশেষে আছে ব্যর্থ প্রেম। এ প্রেম শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে যায়। ব্যর্থ প্রেমিকার চাইতে ব্যর্থ প্রেমিকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। ব্যর্থ প্রেমের শেষটা হয় প্রস্তাব প্রত্যাখান দিয়ে। কখনো কখনো ছেলেদের ভাগ্যে জোটে থাপ্পড়, মেয়েদের জুতার বাড়ি আর কখনো কখনো গণধোলাই। অনেক সময়ই ব্যর্থ প্রেমের পরিণতি হয় করুন। কেউ দেবদাস হয়ে যায়, কেউবা মেয়েদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে ও “দুনিয়ার সব মেয়ে এক” এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। দুর্বল মানসিকতার কেউ কেউ আত্মহননের পথও বেছে নেয়।

    * প্রেম খুবই পরিবর্তনশীল ও ব্যাক্তিভেদে এর সংজ্ঞা ভিন্ন। আর আমার দেয়া প্রকারভেদগুলোর সাথে কারো কারো দ্বিমত থাকাটা স্বাভাবিক। আমি দাবী করছি না এখানে সব ধরনের প্রেমের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু অনেক ধরনের কথা বলা হয়েছে এটা সত্য। প্রকারভেদগুলো আলোচনার সময় যতোটা সম্ভব নিরপেক্ষতা অবলম্বনের চেষ্টা করা হয়েছে। কারো কারো কাছে এই প্রচেষ্টা ধৃষ্টতা মনে হলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

    * আমি জানি আপনাদের কাছেও অনেক ধরনের প্রকারভেদ আছে প্রেমের। তার কোনটি এই পোস্ট অনুপস্থিত থাকলে মন্তব্যতে যোগ করে দিন। আমি পোস্টে যোগ করতে পেরে আনন্দিত বোধ করবো।


  10. যারা ভবিৎষতে প্রেম করবেন এবং প্রেমের বিয়ে করবেন…কিছু হিতোপদেশ

    urmi rumi

    আমাদের কনজার্ভেটিভ সমাজ ব্যবস্হায় স্কুল-কলেজ গন্ডীতে প্রেম হলেও সেগুলো ফিকে হয়ে যাবার সম্ভাবনা বেশী থাকে সময়ের সাথে…বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আবার সেটা উল্টো! সময়ের সাথে সেটা গাঢ় হয়…সবাই ভবিৎষত বা সংসারেরও স্বপ্ন দেখে..(একটা ছোট ঘটনা বলি…এক সিনিয়র ভাই আমাদের ব্যাচের এক মেয়ের প্রতি ছিল চরম পাগল…এমন কিছু নাই করে নাই…সে মেয়ে কর্তৃপক্ষের বহু উপর পর্যন্ত গিয়েছিল অভিযোগ নিয়ে…কাহিনী হলো সে সিনিয়র ভাই যখন পাস করে বের হয়ে গেল তখন কিভাবে জানি তাদের প্রেম হয়ে যায়!! সংসার করছে এখন কানাডাতে)…

    প্রেম যারা করার ইচ্ছা পোষণ করছেন (সিরিয়াসলি…টাইম পাস কিংবা শারিরীক বিষয়গুলোর জন্য নয়)…কিছু হিতোপদেশ…এইগুলো আমার নিজের জীবনের বা চোখে দেখা ঘটনার থেকে সংকলিতঃ

    ১. কনফার্ম হোন ছেলে-মেয়ে দু’জনই একই ধর্মের
    ২. সমসাময়িক ব্যাচের মেয়ে হলে প্রেম এভয়েড করুন (বিয়ের পর চাকরি, ইগো, সন্তান ইত্যাদি সমস্যা তৈরি হয়)
    ৩. ছেলে-মেয়ে ভাই-বোনদের লিস্টিতে কত নম্বরে এবং তাদের বৈবাহিক অবস্হা জেনে নিন (উদহারণ: ছেলে ৩ ভাইদের মধ্যে ছোট আর মেয়ে ২ বোনের মধ্যে বড়; পাশ করার পর মেয়ের বিয়ের হুড়োহুড়ি শুরু হবে কিন্তু ছেলের বড় ভাইদের বিয়ে না হয়ে থাকলে লাগলো গ্যান্জাম)
    ৪. খুবই গুরুত্বপূর্ণ নিজের অর্থনৈতিক-সামাজিক অবস্হানের বাইরে প্রেম করতে যাবেন না (মধ্যবিত্ত ছেলে-উচ্চ মধ্যবিত্ত মেয়ে)…বিয়ের পরে জীবন শেষ
    ৫. নিজের এলাকার ছেলে-মেয়ে দেখে প্রেম করুন (সামাজিকতার অনেক জটিলতা তৈরি হয়)
    ৬. ছেলে বা মেয়ে, নিজের বোনদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন, সংসারে বোনরা একটা বড় ডিসিশন মেকিং পারসন, বিয়ের আগে ও পরে
    ৭. প্রেমের আবেগের রাশে বাস্তবতা ভুলে যাবেন না, পরে পস্তাতে হবে
    ৮. যদি সম্পর্কের ব্যাপারে মনে কোন কিন্তু থাকে কখনও শারিরীক কোন ব্যাপারে যাবেন না (মেয়েরা বিশেষ ভাবে যত্নবান হোন, মোবাইল-হিডেন ক্যামের ব্যাপারে সচেতন থাকুন)
    ৯. বিয়ের পরের লাইফ নিয়ে আলাপ করুন, আপনার নিজের এবং পরিবারের (ছেলেদের বিশেষ করে) সব লিমিটেশন, সিচুয়েশন, সদস্যদের মানসিকতা ইত্যাদি খোলামেলা আলাপ করুন। জটিলতা বিয়ের পর তৈরি হবার চেয়ে ইনিশিয়াল স্টেজে প্রেম ভেঙ্গে যাওয়া ভালো
    ১০. (এই পয়েন্টটা সরিয়ে নিলাম)

    আরো অনেক কিছু দিতে পারতাম…কিন্তু আমার মনে শুরুর জন্য এই কয়টিই যথেষ্ট….

    মনে রাখবেন…প্রেম চাইলেই হয়ত আরেকটা করা যায়…কিন্তু বিয়ের পর জটিলতায় পড়লেন তো জীবন শেষ….